iframe id='adg_footer_pixel_script' src="//adgebra.co.in/afpf/afpf?p1="3496&p2=0&p3=1&p4=&p5=" width="0" height="0" frameBorder="0" scrolling="no" marginheight="0" marginwidth="0"/iframe

জাতি-জনজাতির ঐক্য ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও সুদৃঢ় করেছে দুর্গোৎসব : মুখ্যমন্ত্রী

আগরতলা, ২৯ অক্টোবর  : দুর্গোৎসব আজ জাতি, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে সকল অংশের মানুষের কাছে মিলন ও সম্প্রীতির উৎসবে পরিণত হয়েছে। এবারের দুর্গাপূজা ও মায়ের গমন কার্নিভালকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। এই উৎসব জাতি ও জনজাতি অংশের মানুষের মধ্যে ঐক্য, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করেছে। বৃহস্পতিবার রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনের ১ নম্বর হলে তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের উদ্যোগে আয়োজিত শারদ সম্মান-২০২৬ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করে এই কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আরক্ষা প্রশাসন, তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর, পূর্ত দফতর, আগরতলা পুরনিগম, বিভিন্ন ক্লাব, পূজা কমিটি ও সামাজিক সংস্থার সম্মিলিত সহযোগিতায় এবছর রাজ্যে শারদ উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। আগে প্রতিমা নিরঞ্জনকে কেন্দ্র করে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হতো। কিন্তু সেই পরিস্থিতি এখন অতীত। ত্রিপুরায় বর্তমানে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ গড়ে উঠেছে। এই পরিবেশকে আরও সুদৃঢ় ও সমন্বিত করে তোলার ওপর তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আগরতলা পুর নিগমের মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদার, রাজ্যভিত্তিক সাংস্কৃতিক উপদেষ্টা কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান তথা অনুষ্ঠানের সভাপতি সুব্রত চক্রবর্তী, তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের সচিব কিরণ গিত্যে, দপ্তরের অধিকর্তা বিম্বিসার ভট্টাচার্য প্রমুখ।

এবারের মায়ের গমন কার্নিভালের অন্যতম আকর্ষণ ছিল বিদেশি কূটনৈতিক প্রতিনিধিদের উপস্থিতি। মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই প্রথম কয়েকটি দেশের দূতাবাস ও কূটনৈতিক পর্যায়ের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিরা ত্রিপুরার বর্ণাঢ্য প্রতিমা নিরঞ্জন ও কার্নিভাল প্রত্যক্ষ করেছেন। তাঁদের উপস্থিতি রাজ্যের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে আন্তর্জাতিক স্তরে তুলে ধরার ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে।

কার্নিভালে উপস্থিত ছিলেন রাশিয়ান ফেডারেশনের কলকাতাস্থিত কনসাল জেনারেল ম্যাক্সিম কোজলঙ, ভারতে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সিনিয়র অ্যাডভাইজার ব্র্যাড ক্রোয়েগার, বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনার হাসনে আল বাশার আব্দুল উলায়ে, ভারত সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব কে কে নিরালা এবং সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটের উপাচার্য সন্তোষ আজমেরা প্রমুখ।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আগামী বছর মায়ের গমন কার্নিভাল প্রত্যক্ষ করার জন্য দেশ-বিদেশের আরও বেশি অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানোর উদ্যোগ নেবে রাজ্য সরকার। এই ধরনের আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিদেশি অতিথিদের সঙ্গে সাংস্কৃতিক বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে রাজ্যের শিল্পীরা ত্রিপুরার ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও পর্যটন ক্ষেত্রকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরার সুযোগ পাচ্ছেন। বিদেশি অতিথিরাও রাজ্যের বিভিন্ন পর্যটনস্থল সম্পর্কে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, ত্রিপুরার সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং দুর্গোৎসবের দীর্ঘ পরম্পরা জাতি ও জনজাতি অংশের মানুষের মধ্যে ঐক্য ও সম্প্রীতির বন্ধনকে আরও মজবুত করছে। মায়ের গমন কার্নিভালে ঐতিহ্যের আবেগের সঙ্গে আধুনিক আয়োজন ও সৃজনশীলতার সুন্দর সমন্বয় ঘটেছে। স্থানীয় শিল্পী ও কারিগররা তাঁদের শৈল্পিক দক্ষতা তুলে ধরার সুযোগ পেয়েছেন। এর ফলে তাঁদের ক্ষুদ্র ব্যবসার প্রসার এবং আর্থসামাজিক মানোন্নয়নের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। দুর্গোৎসবে সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ রাজ্যের সামাজিক ও অর্থনৈতিক জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের সাম্প্রতিক উন্নয়নমূলক উদ্যোগগুলির কথাও তুলে ধরেন। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর স্বপ্নের আগরতলা লাইট হাউস প্রকল্পের দুটি টাওয়ারের উদ্বোধন করা হয়েছে। এর ফলে ২৭৮টি পরিবারের আবাসনের ব্যবস্থা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় মোট এক হাজার পরিবারের থাকার সংস্থান থাকবে। অবশিষ্ট আবাসনগুলির কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী।

রাজ্যে ই-টি নিলাম কেন্দ্র চালুর প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আগে ত্রিপুরার চা নিলামে অংশ নিতে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের কলকাতা কিংবা গুয়াহাটির ওপর নির্ভর করতে হতো। এখন রাজ্যে এই ব্যবস্থা চালু হওয়ায় উভয় পক্ষই উপকৃত হবেন। এর ফলে চা বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে এবং রুগ্ন চা বাগানগুলিকে নতুন করে উজ্জীবিত করার সম্ভাবনা তৈরি হবে।

মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের বিভিন্ন ক্লাবের প্রতিনিধিদের উদ্দেশে বলেন, নেশামুক্ত ত্রিপুরা গঠন, সবুজ ত্রিপুরা গড়ে তোলা, সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ, স্বেচ্ছা রক্তদান এবং পরিবেশ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির মতো সামাজিক উদ্যোগে ক্লাবগুলিকে আরও বেশি করে এগিয়ে আসতে হবে। সামাজিক দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে রাজ্যের সামগ্রিক উন্নয়নে ক্লাবগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। শারদ সম্মানে পুরস্কারপ্রাপ্ত ক্লাবগুলিকে অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি যারা পুরস্কার পায়নি, তাদের প্রতিনিধিদেরও শুভেচ্ছা জানান মুখ্যমন্ত্রী। এক ত্রিপুরা, শ্রেষ্ঠ ত্রিপুরা গড়ে তুলতে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের সচিব কিরণ গিত্যে বলেন, দুর্গোৎসব রাজ্যের স্থানীয় শিল্পী ও কারিগরদের প্রতিভা এবং শিল্পকৌশল প্রদর্শনের অন্যতম বৃহৎ মাধ্যম। এই উৎসব ত্রিপুরার সৃজনশীলতা ও সামাজিক সম্প্রীতির উজ্জ্বল প্রতিফলন। এবছর দুর্গোৎসবকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে বিভিন্ন পূজা কমিটি, শিল্পী এবং সামাজিক সংগঠনগুলির অবদান প্রশংসনীয়।

তিনি জানান, দুর্গাপূজা আয়োজনের ক্ষেত্রে রাজ্যের ক্লাবগুলির শ্রেষ্ঠ প্রয়াসকে সম্মান জানানো এবং তাদের সৃজনশীলতাকে স্বীকৃতি দেওয়ার লক্ষ্যেই শারদ সম্মান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এই সম্মাননা কেবল পুরস্কার প্রদানের অনুষ্ঠান নয়, বরং উৎসবের দিনগুলিতে পরিবেশ সংরক্ষণ, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং শৈল্পিক উপস্থাপনার ক্ষেত্রে সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও শৃঙ্খলার স্বীকৃতি। আগামী দিনে দুর্গোৎসব ও মায়ের গমন অনুষ্ঠান ত্রিপুরাকে পর্যটনের অন্যতম আকর্ষণীয় কেন্দ্রে পরিণত করবে এবং রাজ্যের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে আরও শক্তিশালী করবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এদিন শারদ সম্মান-২০২৬ অনুষ্ঠানে মায়ের গমন কার্নিভালে বিজয়ী ক্লাবগুলির নাম ঘোষণা করা হয়। এই বিভাগে প্রথম স্থান অধিকার করেছে আগরতলার শতদল সংঘ। দ্বিতীয় স্থান পেয়েছে আগরতলার সংহতি ক্লাব এবং তৃতীয় স্থান অধিকার করেছে আগরতলার ব্লাড মাউথ ক্লাব।

এছাড়া শ্রেষ্ঠ প্রতিমা, শ্রেষ্ঠ মণ্ডপসজ্জা, শ্রেষ্ঠ থিম এবং শ্রেষ্ঠ পরিবেশবান্ধব বিভাগে পশ্চিম জেলার ১৫টি ক্লাবকে শারদ সম্মান প্রদান করা হয়। পশ্চিম জেলা ছাড়া রাজ্যের অন্যান্য সাতটি জেলার মোট ২৮টি ক্লাবকেও সম্মানিত করা হয়।

অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীসহ অন্যান্য অতিথিরা বিজয়ী ক্লাবগুলির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের হাতে ট্রফি, শংসাপত্র এবং আর্থিক পুরস্কার তুলে দেন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্লাব, পূজা কমিটি ও সামাজিক সংস্থার সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং সদস্য-সদস্যারা উপস্থিত ছিলেন। এদিন তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের পক্ষ থেকে শারদ সম্মান এবং মায়ের গমন-২০২৬-এর আয়োজন ও বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে একটি তথ্যচিত্রও প্রদর্শন করা হয়।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *