iframe id='adg_footer_pixel_script' src="//adgebra.co.in/afpf/afpf?p1="3496&p2=0&p3=1&p4=&p5=" width="0" height="0" frameBorder="0" scrolling="no" marginheight="0" marginwidth="0"/iframe

প্রত্যন্ত অঞ্চলে পশুচিকিৎসা পৌঁছে দিতে ৫০টি মিনি মোবাইল ভেটেনারী ইউনিটের উদ্বোধন

আগরতলা, ২৪ জুলাই: রাজ্যের প্রত্যন্ত অঞ্চলে গবাদি পশুর চিকিৎসা পরিষেবা আরও সহজলভ্য ও দ্রুত পৌঁছে দিতে ৫০টি মিনি মোবাইল ভেটেনারী ইউনিটের উদ্বোধন করা হয়েছে।  শুক্রবার আগরতলায় প্রজ্ঞা ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রাণী সম্পদ বিকাশ দফতরের মন্ত্রী সুধাংশু দাস আনুষ্ঠানিকভাবে সবুজ পতাকা নেড়ে এই ইউনিটগুলির সূচনা করেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রাণী সম্পদ বিকাশ দফতর শুধু পশুচিকিৎসা পরিষেবা উন্নত করাই নয়, দুধ, ডিম ও মাংস উৎপাদন বৃদ্ধি করে গ্রামীণ এলাকার যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করার লক্ষ্যেও ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে।  তিনি জানান, প্রত্যন্ত এলাকার পশুপালকদের দীর্ঘদিনের সমস্যার কথা মাথায় রেখেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে অসুস্থ গবাদি পশুর চিকিৎসার জন্য আর দূর-দূরান্তে ছুটতে না হয়।

মন্ত্রী জানান, ২০২২-২৩ অর্থবর্ষে প্রাণী সম্পদ বিকাশ দফতর ‘হেলথ কেয়ার ফেসিলিটি’ প্রকল্প চালু করে।  সেই প্রকল্পের আওতায় ১৩টি মিনি মোবাইল ভেটেনারী ইউনিট ক্রয় করা হয়।  সম্প্রতি ইউনিটগুলির জন্য চালক নিয়োগ সম্পন্ন হওয়ায় পরিষেবাটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা সম্ভব হয়েছে।

তিনি মুখ্যমন্ত্রী প্রাণী সম্পদ বিকাশ যোজনার আওতায় এই গাড়িগুলির চালক নিয়োগের জন্য মুখ্যমন্ত্রী এবং অর্থমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, এই সিদ্ধান্ত রাজ্যের পশুপালন ক্ষেত্রের উন্নয়নে একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ।  মানুষের চিকিৎসার মতোই প্রাণীদের চিকিৎসাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।  কারণ, পশুপালন রাজ্যের গ্রামীণ অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।

মন্ত্রী সুধাংশু দাস আরও বলেন, গত এক দশকে রাজ্যে দুধ, ডিম ও মাংস উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি ঘটেছে।  ২০২২-২৩ সালে রাজ্যে দুধ উৎপাদন ছিল ২.৪৭ লক্ষ মেট্রিক টন, যা বর্তমানে বেড়ে ২.৬৭ লক্ষ মেট্রিক টনে পৌঁছেছে।  অর্থাৎ, প্রায় ৬ শতাংশ বৃদ্ধি হয়েছে।  একইভাবে ডিম উৎপাদনেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।  তিনি দাবি করেন, বর্তমানে মাংস উৎপাদনের ক্ষেত্রে রাজ্য স্বয়ংসম্পূর্ণতার পর্যায়ে পৌঁছেছে।

মন্ত্রী বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত জাতের পশুপালন, নিয়মিত টিকাকরণ ও চিকিৎসা পরিষেবার সম্প্রসারণের ফলেই উৎপাদন বৃদ্ধি সম্ভব হয়েছে।  নতুন মোবাইল ভেটেনারী ইউনিটগুলি চালু হওয়ার ফলে দুর্গম এলাকার পশুপালকেরা বাড়ির কাছেই জরুরি চিকিৎসা পরিষেবা পাবেন।  এর ফলে পশুর মৃত্যুহার কমবে, উৎপাদনশীলতা বাড়বে এবং পশুপালনের প্রতি আরও বেশি মানুষ উৎসাহিত হবেন।

অনুষ্ঠানের শেষে মন্ত্রী সুধাংশু দাস এবং উপস্থিত অতিথিরা সবুজ পতাকা নেড়ে ১৩টি মিনি মোবাইল ভেটেনারী ইউনিটের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করেন।  দফতরের আধিকারিকরা জানান, এই ইউনিটগুলির মাধ্যমে রাজ্যের বিভিন্ন প্রত্যন্ত এলাকায় নিয়মিত পশুচিকিৎসা, টিকাকরণ, স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া হবে।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *