আগরতলা, ২৪ জুলাই: নিট-সহ বিভিন্ন সর্বভারতীয় পরীক্ষায় অনিয়ম ও প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন আরও জোরদার করার হুঁশিয়ারি দিল ত্রিপুরা প্রদেশ কংগ্রেস। দলের দাবি, দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষার স্বার্থেই এই আন্দোলন চলছে এবং আগামী দিনে তা আরও দুর্বার রূপ নেবে।
শুক্রবার আগরতলার প্রদেশ কংগ্রেস ভবনে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে এই মন্তব্য করেন প্রদেশ কংগ্রেসের মুখপাত্র প্রবীর চক্রবর্তী। তিনি অভিযোগ করেন, দেশের ছাত্রসমাজ দীর্ঘদিন ধরে একের পর এক অনিয়ম, প্রশ্নফাঁস এবং দুর্নীতির শিকার হলেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর তা উপলব্ধি করতে আড়াই মাস সময় লেগেছে। তাঁর কথায়, “দেশে যে পাপাচার, অনাচার ও জালিয়াতি চলছে, তা স্বীকার করারও ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর নেই।”
প্রবীর চক্রবর্তী আরও বলেন, প্রশ্নফাঁস ও শিক্ষা ব্যবস্থার সংকটের দায় এড়াতে কেন্দ্রীয় সরকার ব্যর্থ হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এখনও কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ নিতে পারেননি কিংবা তাঁকে পদত্যাগ করাতেও সক্ষম হননি।
আন্দোলনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে কংগ্রেস মুখপাত্র বলেন, “যখনই প্রগতিশীল শক্তির উত্থান ঘটে, তখনই প্রতিক্রিয়াশীল শক্তিও সক্রিয় হয়ে ওঠে।” তাঁর দাবি, চলমান ছাত্র আন্দোলনকে বিপথে চালিত করার জন্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন সরকার বিভিন্নভাবে সক্রিয় রয়েছে। বিভিন্ন রাজ্যে আন্দোলনের গতি থামিয়ে দেওয়ারও চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রীর সাম্প্রতিক এক বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে প্রবীর চক্রবর্তী বলেন, মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন “কংগ্রেসের কায়দায় আন্দোলন হবে”। এ বিষয়ে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে তাঁকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, “কংগ্রেস সবসময় দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষার জন্য আন্দোলন করেছে। দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষই তরুণ প্রজন্ম, তাদের স্বার্থ রক্ষাই কংগ্রেসের অঙ্গীকার।”
সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন প্রদেশ যুব কংগ্রেসের সভাপতি নীলকমল সাহা। তিনি জানান, সর্বভারতীয় যুব কংগ্রেসের সভাপতির নির্দেশে ত্রিপুরা প্রদেশ যুব কংগ্রেসের একটি বৃহৎ প্রতিনিধি দল শনিবার দিল্লির যন্তরমন্তরে আন্দোলনে অংশ নিতে রওনা হবে। সেখানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা যুব কংগ্রেস কর্মীদের সঙ্গে মিলিত হয়ে শিক্ষা ব্যবস্থার অনিয়ম, প্রশ্নফাঁস এবং ছাত্রস্বার্থবিরোধী নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো হবে।
প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্বের দাবি, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে দুর্নীতিমুক্ত করা, পরীক্ষায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং ছাত্র-যুবদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

